চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, 'গত সপ্তাহে এক সেমিনারে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে আমি সংশয় প্রকাশ করেছি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না এমন কথা বলিনি। অথচ কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম বলেছে, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে না। আমি বলতে চেয়েছি, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একেবারেই অসম্ভব নয়, তবে কঠিন হবে।' গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার দলিলের মোড়ক উন্মোচনের আগে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের অভাব ও অভ্যন্তরীণ সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে সংশয় রয়েছে। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি আদর্শ ও সম্ভাবনাময়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এ রকম সমস্যা থাকবে। আর এসব সমস্যা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। পুরো বিশ্বের সমস্যা। মূল্যস্ফীতির সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের। তিনি বলেন, 'এরকম সমস্যা নিয়ে আমরা অগ্রসর হব।' অর্থমন্ত্রী বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিল উচ্চাভিলাষী, তবে তা অর্জনযোগ্য। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিলকে নির্দেশনামূলক বলে অভিহিত করেন তিনি।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার দলিল উন্মোচনকালে অন্যান্যের মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ইকবাল মাহমুদ, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভুঁইয়া সফিকুল ইসলাম, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য ড. সাত্তার মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিলে দারিদ্র্য নিরসন, আঞ্চলিক আয় ও বৈষম্য কমানোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণ, মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সুশাসনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। অন্যান্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় প্যানেলের মতামত পরিকল্পনা দলিলে অন্তর্ভুক্ত হতো না। তবে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিল এর ব্যতিক্রম। এ দলিলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কিছু কিছু নতুন বিষয় স্থান পেয়েছে, যা আগের দলিলগুলোতে স্থান পায়নি। বিশেষ করে নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাঁচ বছর মেয়াদি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১১-১৫ বাস্তবায়নে মোট ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪০ কোটি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৯৬ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭ বার



