ঈদুল আযহার আর মাত্র ৬ দিন বাকি। কিন্তু এসময়ের মধ্যেও কক্সবাজার জেলা শহরে এখনো বসেনি কোরবানির পশুর বাজার। গতকাল সোমবার কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও শহরের খুরুশকুল সড়কে দুটি হাট বসানোর জন্য ইজারা দিয়েছে কক্সবাজার পৌরসভা। সেখানে কাল বুধবার থেকে কোরবানির পশুর বাজার বসতে পারে বলে জানা গেছে। তবে গ্রাম-গঞ্জের হাটগুলোতে কিছু কিছু পশু উঠতে শুরু করেছে। সে সব পশুর দাম চড়া হওয়ার কারণে ক্রেতার সংখ্যাও কম। সবাই অপেক্ষা করছেন আরো কয়েক দিন। কোরবানির ৩ দিন আগে থেকেই মূলত কক্সবাজারে পশুর বাজার জমে উঠবে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার শহরের হোটেল প্যানোয়ার মালিক আলী হাসান চৌধুরী এবার সাড়ে তিন লাখ টাকার বাজেট করেছেন কোরবানির গরু কেনার জন্য। বিমানবন্দর সড়কের ব্যবসায়ী মাসেদুল হক রাশেদ বাজেট করেছেন দুই লাখ টাকা, রফিকুর হুদা চৌধুরী ও শফিকুর রহমান কোম্পানি দেড় লাখ টাকার বাজেট নিয়ে বসে রয়েছেন কোরবানির গরু কেনার জন্য।
এদিকে এবারের কোরবানির পশুর বাজারে সবর্োচ্চ দামের গরু নিয়ে আসছে উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের রুমখা চৌধুরী পাড়ার চৌধুরী এগ্রো ফার্মস। ওই ফার্মের উদ্যোক্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, এবারের কোরবানির পশুর বাজারে তিনি ৫০ টি গরু বিক্রি করবেন। এবারে তার কাছে এমন একটি গরু রয়েছে যার দাম হচ্ছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। ওই গরুটির ওজন ১৫ মণ ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি জানান। এছাড়া ২ লাখ টাকা দামের ৫ টি, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দামের ৮ টি সহ ৫০ টি গরু রয়েছে তার। তিনি জানান, ২০০৯ সালে ৫ টি গরু নিয়ে শুরু করে এখন তার ৫০ টি গরু বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে দেশীয় গরু কিনে তা লালন-পালন করে কোরবানির বাজারে বিক্রি করে তার গড়া প্রতিষ্ঠান। গত ক'বছর ধরেই চলছে কেবল কোরবানির গরু বিক্রির জন্য প্রতিষ্টানটিতে গরুর লালন-পালন। খামারে তার শ্রমিক রয়েছে ২০ জন। এসব লোকজনের সার্বক্ষণিক কাজই হচ্ছে খামারের গরুগুলোকে যথাসময়ে ভূসির সাথে খড় সহ অন্যান্য খাবার খাওয়ানো। তিনি বলেন, আমার খামারে কোরবানির গরু লালন পালন করার কারণে ফি বছরের কোরবানির গরুর জন্য ইতোমধ্যে বেশ কিছু নিয়মিত ক্রেতাও হয়ে গেছেন। অনেকেই আবার এ কারণে খামারটিকে 'কোরবানির খামার' বলে থাকেন। ইমরুল চৌধুরী একজন শিক্ষিত এবং ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও আজ মাত্র ক'বছরের মাথায় কোরবানির গরুর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কক্সবাজারস্থ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোতাহের হোসেন এ প্রসঙ্গে গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, ব্যাংকের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কর্মসূচির আওতায় তিনি ইমরুল চৌধুরীকে গরু মোটা তাজাকরণ খামারের উদ্যোক্তা হতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ধনাঢ্য পরিবারের বি,বি,এ পাস এ তরুণ কিছুতেই ব্যাংক ঋণ নিতে রাজি হচ্ছিলেন না। কৃষি ব্যাংক ডি,জি,এম এক প্রকার জোর জবরদস্তিমূলক তাকে মাত্র ২০ লাখ টাকা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণ নিতে যারা ভয় পাবেন তারা কোনোদিন ব্যাংকের টাকা অনাদায় রাখবেন না-এটা নিশ্চিত হয়েই তিনি তরুণ উদ্যোক্তা ইমরুল চৌধুরীকে উৎসাহিত করেন গরুর খামার করার জন্য। উদ্যোক্তা ইমরুল চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, মূলত ব্যাংকের টাকায় নয় আমার নিজের টাকায় গড়েছি খামারটি। যে গরুটি আজ থেকে ৮ মাস আগে ৪৫ হাজার টাকায় কিনেছিলাম সেটি এখন কমপক্ষে দেড়'দু লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে। এমনিতে এবার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আসছে বেশ কম। এ কারণে স্থানীয় গবাদি পশুর দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে। তাই তার খামারের গরুর চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যোক্তা ইমরুল চৌধুরী জানান, ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। যেমন আমি যে খামারটি করেছি তার জন্য বাড়তি তেমন ঝামেলা নেই। বরং একদিকে ব্যবসা যেমনি রয়েছে তেমনি শখও মিটানো সহজ এ কাজে।
সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭ বার




Is this cow is realy blue?