লেনদেন বেড়েছে ৩৬২ কোটি টাকা * দর কমেছে ব্যাংক খাতের সব কম্পানির
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সব ধরনের সূচকের পতন হয়েছে। সাধারণ সূচক কমেছে প্রায় ৫০ পয়েন্ট। কমেছে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দর এবং বাজার মূলধন। তবে লেনদেন বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৩৬২ কোটি টাকা।
বাজারের এই দর পতনকে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন বলেছেন বাজার-বিশ্লেষকরা। অনেকে বলেছেন, প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভি সমন্বয় করে মার্জিন ঋণ প্রদানের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকার সুস্পষ্ট প্রভাব পড়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনে। এর প্রভাবে অনেক বিনিয়োগকারী লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন বাজার-বিশ্লেষকরা।
ডেসা সিকিউরিটিজ হাউসের ব্যবস্থাপক আরিফুল কবির অন্তু বলেন, এনএভি-ভিত্তিক মার্জিন ঋণ বাস্তবায়নে যারা বিরোধিতা করছে, তারা হয়তো দরপতন ঘটিয়ে এসইসিকে চাপে রাখতে চাচ্ছে। কিন্তু বাজারের এই দর পতনে এসইসি হয়তো খুশি। কারণ, বাজার অতি মূল্যায়িত হয়ে রয়েছে। অতি মূল্যায়িত বেশ কিছু শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
গতকাল ডিএসইতে মোট ২৪২টি কম্পানির সাত কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ৩৬৩টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার ৫১৭ কোটি ৩১ লাখ ছয় হাজার ৭৪৭ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৬২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বেশি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৯.৮৪ পয়েন্ট কমে ৬৬২০.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৩.১৫ পয়েন্ট কমে ৩৮৬৯.৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল লেনদেনকৃত ২৪২টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৪টির, কমেছে ১৬৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি কম্পানির শেয়ার। গতকাল ব্যাংক খাতের ৩০টি কম্পানির সব কয়টির দর কমেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হওয়া ২১টি কম্পানির মধ্যে দর কমেছে ২০টির। বীমা খাতের লেনদেন হওয়া ৪৩টি কম্পানির মধ্যে দর কমেছে ৩৯টির। একইভাবে দর পতনের ধারায় ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, সেবা ও আবাসন এবং সিমেন্ট খাত। বিপরীতে দর বৃদ্ধির ধারায় ছিল বস্ত্র মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইটি খাত। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হওয়া ২৪ ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬টির। লেনদেন অপরিবর্তিত থেকেছে তিনটির, কমেছে পাঁচটির দর।
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কম্পানি হলো_বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সটেক্স, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মা, বিএসআরএম স্টিল, আরএন স্পিনিং, তিতাস গ্যাস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও সামিট পাওয়ার।
অন্যদিকে দর বৃদ্ধিতে গতকালের প্রধান ১০টি কম্পানি হলো_দেশ গার্মেন্ট, সোনালি আঁশ, দুলামিয়া কটন, সায়হাম টেক্সটাইল, মিরাক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, আফতাব অটোমোবাইলস, আরএন স্পিনিং, বেক্সটেক্স, গ্রামীণ স্কিম-১ ও বিডি ল্যাম্পস।
দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কম্পানি হলো_বাংলাদেশ লিফ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড, থেরাপেটিকস বাংলাদেশ লিমিটেড, ফিনিক্স ফিন্যান্স, এশিয়া প্যাসেফিক ইনস্যুরেন্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড, কে অ্যান্ড কিউ, বিডি ফিন্যান্স, ইউনাইটেড লিজিং কম্পানি, সিনোবাংলা ও কাশেম ড্রাই সেল।
গতকাল বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার ৪৫৩ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ১৮৬ টাকা।
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭ বার



