প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতি বিদেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের কেউ কেউ প্রতারণার আশ্রয় নেয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'অবশ্যই এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতারণা সরকার সহ্য করবে না।'
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সভাপতি আবুল বাশারের নেতৃত্বে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জেলখানায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের আটক থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে বায়রাকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বায়রা নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং তা সমাধানের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী বায়রা নেতাদের শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে আর্থিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, লোক পাঠানোর ব্যাপারে অবশ্যই শ্রমিক কল্যাণ ও দেশের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনায় রাখতে হবে। একজন শিক্ষককে ইট ভাঙার জন্য বিদেশে পাঠানো কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যে শ্রমিকের যে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁকে সে কাজেই পাঠানো উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে চাকরি করতে গিয়ে কাউকে যাতে আর নিঃস্ব না হতে হয় সে জন্য সরকার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহীরা এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। তাঁরা ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা চাকরি করেই শোধ করবেন। ফলে কাউকে জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে বিদেশে যেতে হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, যে শ্রমিক যে কাজের জন্য বিদেশে যাবেন সেই কাজের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া যে দেশে যাবেন সে দেশের ভাষা শেখানোর ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নতুন নতুন শ্রমবাজার খোঁজার জন্য বায়রা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে।'
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯ বার



