আপনার একাউন্ট
sitlogo
তাজা খবরঃ
loading...
সোমবার, মে ২১, ২০১২
বিস্তারিত সংবাদ

বর্ষায় রাঙ্গামাটি

কাপ্তাই লেকের বুকে ছোট্ট একটি শহর রাঙ্গামাটি। পার্বত্য চট্টগ্রামের এ জেলার সর্বত্রই রয়েছে নানা বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। বর্ষায় এ জায়গাটি ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ধরা দেয় একটু ভিন্ন রূপেই। বর্ষার মেঘলা আকাশ, টাপুর-টুপুর বৃষ্টি, জলে টৌটুম্বুর কাপ্তাই লেকে ভ্রমণ, টুক টুক, পেদা টিং টিং, শুভলং ছাড়িয়ে কাপ্তাই লেক ধরে আরো দূরের কোনো গন্তôব্যে যাত্রা, কিংবা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দূর পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এড়্গুনি বেড়িয়ে পড়ুন রাঙামাটির পথে।

 ঢাকা থেকে বাস ছেড়ে সরাসরি এসে থামে রাঙ্গামাটি শহরে। রাত দশটার বাস ছাড়লে খুব ভোরেই পৌঁছায়। রাঙামাটি শহরে রয়েছে বেশ কয়েকটি হোটেল। এখন সেখানে পর্যটকদের ভিড় তেমন একটা নেই। রাঙামাটি ভ্রমণ শুরম্ন করা যেতে পারে শহরের একপ্রান্তô থেকে। প্রথমেই যেতে পারেন উপজাতীয় জাদুঘরে। যে কোন বেবিটেক্সিওয়ালাকে বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে জাদুঘরে। এখানে রয়েছে রাঙামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত নানা আদিবাসিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সময়ের নানা সরঞ্জামাদী, পোশাক, জীবনাচরণ এবং বিভিন্ন ধরণের তথ্য। ছোট অথচ অত্যন্তô সমৃদ্ধ এ জাদুঘরটি খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্তô। শনি, রবি ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জাদুঘর বন্ধ থাকে। জাদুঘরে বড়দের প্রবেশ মূল্য পাঁচ টাকা ও ছোটদের দুই টাকা

উপজাতীয় জাদুঘর থেকে কাছেই রাজ বনবিহার। এ অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর তীর্থ স্থান এটি। এখানে আছে একটি প্রার্থনালয়, একটি প্যাগোডা, বনভান্তেôর (বৌদ্ধ ভিড়্গু) আবাসস্থল ও বনভান্তেôর ভোজনালয়। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলড়্গে এখানে চলে প্রার্থনা। রাজ বনবিহারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।

রাজবনবিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি। নৌকায় পার হয়ে খুব সহজেই যাওয়া যায় এই রাজবাড়িতে। আঁকা-বাঁকা সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে গাছের ছায়ায় ইট বাঁধানো পথের মাথায় এ সুন্দর বাড়িটি। এখানে আরো রয়েছে চাকমা সার্কেলের প্রশাসনিক দপ্তর।

রাঙামাটি শহরের একেবারে শেষ প্রান্তেô রিজার্ভ বাজার ছাড়িয়ে আরো প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে পর্যটন কমপেস্নক্স। এই কমপেস্নক্সের ভেতরেই রয়েছে সবার চেনা সুন্দর ঝুলন্তô সেতুটি। সেতু পেরিয়ে সামনের পাহাড়ে উঠলে কাপ্তাই লেকের বড় অংশ দেখা যায়। এখান থেকে কাপ্তাই লেকে নৌ ভ্রমণও করা যায়। তবে এখানে সাম্পানে চড়ে ঝুলন্তô সেতুর আশপাশে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগবে। ঘণ্টা ১০০ টাকায় এখানে পাওয়া যাবে পাঁচজনের চড়ার উপযোগী সাম্পান।

পরদিনটি রাখুন কাপ্তাই লেক ভ্রমণের জন্য। ১৯৬০ সালে জল বিদুøৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে কর্ণফুলী হ্রদ তথা কাপ্তাই লেকের জন্ম। প্রায় ১৭২২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ লেকের স্বচ্ছ পানি আর বাঁক বাঁকে পাহাড়ের সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। শহরের রিজার্ভ বাজার ঘাটে পাওয়া যায় কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের নানা রকম ইঞ্জিন নৌকা। ঝুলন্তô সেতুর কাছেও এরকম অনেক নৌকা আছে, তবে সেখানে ভাড়াটা একটু বেশিই গুনতে হবে। সারাদিনের জন্য একটি বোট ভাড়া করে সকালে চলে যাওয়া যায় শুভলং বাজার। এখানে আর্মি ক্যাম্পের পাশ থেকে সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের উপরে উঠে কাপ্তাই লেকের অপার সৌন্দর্য উপভোগ কার যায়, তবে এখানে বানর থেকে সাবধান! এদের বিরক্ত করা যাবে না। আর সেটা করলে ওরা কিন্তু চড়াও হতে পারে। শুভলংয়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরতি পথের শুরম্নতেই হাতের ডানে শুভলং ঝরনা। এখন বর্ষাকাল। শুভলংয়ের ঝরণায় তাই অঝোর ধারা। ঝরনার শীতল জলে শরীরটা ভিজিয়ে নিতে পারেন। কাপ্তাই লেকের দুপাশের আকাশছোঁয়া পাহাড়গুলোর সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলতে থাকুন। পথে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন টুক টুক ইকো ভিলেজ কিংবা পেদা টিংটিং-এ। শুরম্নতেই পড়বে টুকটুক ইকো ভিলেজ। কাপ্তাই লেকের একেবারে মাঝে এই ইকো ভিলেজটির সুন্দর সুন্দর কটেজে রাত কাটানোরও ব্যবস্থা আছে। এর রেস্তেôাঁরাটিতে পাওয়া যায় বিভিন্ন রকম পাহাড়ি মেনুø। এখান থেকে রাঙ্গামাটি শহরের দিকে আসতে সামান্য কিছু পথ এগুলেই পড়বে পেদা টিংটিং। এখানকার রেস্তেôাঁরাটিতেও থাকে নানা রকম খবারের সঙ্গে পাহাড়ি নানা পদের খাবার। সারাদিন কাপ্তাই লেকের এসব জায়গা ভ্রমণের জন্য একটি ইঞ্জিন বোটের ভাড়া পড়বে ১০০০-২৫০০ টাকা। এছাড়া রাঙামাটি শহর থেকে এখন প্রতিদিন শুভলং ছেড়ে যায় আধুনিক ভ্রমণতরী কেয়ারি কর্ণফুলী। প্রতিদিন সকালে ছেড়ে আবার বিকেলে ফিরে আসে। ফিরতি পথে টুক টুক ইকো ভিলেজ কিংবা পেদা টিংটিংয়ে থাকে বিরতি। যাওয়া-আসার ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা।

 কীভাবে যাবেন

ঢাকার কলাবাগান, ফকিরাপুল ও কমলাপুর থেকে সরাসরি রাঙামাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায় ডলফিন পরিবহন (০১৭৩১৮২৩৭২১), এস আলম (৯৩৩১৮৬৪), সৌদিয়া পরিবহন (০১৯১৯৬৫৪৮৫৭), শ্যামলী পরিবহন (৭৫৪১০১৯), ইউনিক সার্ভিস (০১৯১৮০৬৪৪৭) ইত্যাদি। ভাড়া জনপ্রতি ৩৫০-৩৮০ টাকা। শ্যামলী পরিবহনের একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস ঢাকা থেকে প্রতিদিন রাত দশটায় এবং রাঙামাটি থেকে সকাল সাড়ে দশটায় ছাড়ে। ভাড়া ৫০০ টাকা। এছাড়া যে কোনো বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে চট্টগ্রাম এসে সেখান থেকেও রাঙামাটি যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের সিনেমা প্যালেস এবং বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তô প্রতি বিশ মিনিট পর পর রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বিরতিহীন বাস। ভাড়া জনপ্রতি ৭০-৯০ টাকা।

 কোথায় থাকবেনঃ

রাঙামাটি শহরে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল আছে। পর্যটন কমপেস্নক্সের ভেতরে পর্যটন মোটেল (০৩৫১-৬৩১২৬, ঢাকা অফিস ৮১১৭৮৫৫-৯, ৮১১৯১৯২, এসি দ্বৈত কড়্গ ১৭২৫ টাকা, নন এসি দ্বৈত কড়্গ ৮০৫ টাকা)। শহরের কাঁঠালতলীতে হোটেল সুফিয়া (০৩৫১-৬২১৪৫, এসি একক কড়্গ ৯০০ টাকা, এসি দ্বৈত কড়্গ ১২৫০ টাকা, নন এসি দ্বৈত কড়্গ ৮০০ টাকা )। রিজার্ভ বাজারে হোটেল গ্রীন ক্যাসেল (০৩৫১-৬৩২৮২, ০১৭২৬৫১১৫৩২, এসি কড়্গ ১১৫০-১৬০০ টাকা, নন এসি কড়্গ ৭৫০-১৫০০টাকা)। কলেজগেট এলাকায় মোটেল জজ (০৩৫১-৬৩৩৪৮, ০১৫৫৮৪৮০৭০১, এসি কড়্গ ৯০০-১১০০ টাকা, নন এসি কড়্গ ৩৫০-৭০০টাকা)। নতুন বাস স্টেশনে হোটেল আল মোবা (০৩৫১-৬১৯৫৯, ০১৮১১৯১১১৫৮, এসি কড়্গ ১২০০ টাকা, নন এসি কড়্গ ৩০০-৫০০টাকা)। পর্যটন রোডে হোটেল মাউন্টেন ভিউ (০৩৫১-৬২৮৪৮, ০১৫৫৩৪৪০৩২৪, এসি কড়্গ ১২০০ টাকা, নন এসি কড়্গ ২০০-১২০০টাকা)।

 প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

বাংলাদেশের একমাত্র রিকশামুক্ত শহর রাঙ্গামাটি। তাই এই শহরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হয় বেবিটেক্সিতে। এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজে পৌরসভা নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া হলো ১০ টাকা। এছাড়া রিজার্ভ নিলে শহরের এক প্রান্তô থেকে অন্য প্রান্তেô ভাড়া ৬০-১০০ টাকা। রাঙামাটি শহর থেকে কিনতে পারেন আদিবাসীদের পোশাক,রাঙামাটির তাঁতের কাপড়, আদিবাসীদের তৈরি নানা রকম হস্তôশিল্প সামগ্রী ইত্যাদি। কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের জন্য ইঞ্জিন বোটটি দেখে-শুনে নিন। বর্ষাকাল বলে ছাউনি আছে এমন বোট ভাড়া করম্নন। বোটে লাইফ জ্যাকেট আছে কিনা আগেই জেনে নিন।

 ভ্রমণ পরিকল্পনাঃ

প্রথম দিনে শহর ও এর আশপাশের দর্শনীয় জায়গাগুলোতে বেড়ানো যেতে পারে। পরের দিনটি পুরোপুরি রাখুন কাপ্তাই লেক ভ্রমণের জন্য।

 জররি প্রয়োজনেঃ

সদর হাসপাতাল ০৩৫১-৬৩০৩০, ফায়ার সার্ভিস ০৩৫১-৬২২২০, সদর থানা ০৩৫১-৬২০৬০, ৬২০২২।

সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৫৪ বার

বর্ষায় রাঙ্গামাটি এ একটি মন্তব্য

  1. Car Bangladesh বলেছেনঃ

    Khub valo laglo icche korche akhon e dour dei, thanks information gulo deyar jonno, link ta rekhe dilam. Plan ase wife k niye jabo chutite.

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

আমাদের সাথে যুক্ত হোন

আপনার মেইল এড্রেস লিখুন:

আজকের এক্সচেঞ্জ রেট

আজকের রেট ১ ইউরো = ১০৬.০০ টাকা

সূত্র: ন্যাশনাল একচেঞ্জ

আজকের এক্সচেঞ্জ রেট

মতামত

আমাদেরইতালী.কম সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

Loading ... Loading ...

ক্যালেন্ডার

জুন 2010
সোমমঙ্গলবুধবৃহঃশুক্রশনিরবি
  অগা »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 

ফেসবুকে অনুসরণ করুন

RSS প্রথম আলো সর্বশেষ আপডেট

  • খালেদার দুর্নীতির বিচার না হলে অন্যদের করা যাবে না: হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীর আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য। তাঁর আন্দোলন নিজের এবং পুত্রদের দুর্নীতির বিচার বন্ধ করার জন্য। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতির বিচার করা না গেলে অন্যদের দুর্নীতির বিচারও করা যাবে না। গতকাল রোববার গণভবনে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনি […]
  • হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুর্নীতিতে জড়িত, বিচার হবে: খালেদা
    বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্নীতির সব প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। সময়মতো প্রমাণ দেওয়া হবে। দেশে না হলে, আন্তর্জাতিকভাবে এসব দুর্নীতির বিচার হবে।’ গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের গণ-অনশন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। খালেদা […]
  • পদ না থাকলেও পদোন্নতি, প্রশাসনে সমস্যা বেড়েছে
    অপরিকল্পিত পদোন্নতিতে জনপ্রশাসনে সমস্যা বেড়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত ৬৪৯ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু উচ্চতর পদ না থাকায় তাঁদের অধিকাংশই এখনো আগের পদেই রয়ে গেছেন। এ ছাড়া পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার যে উদ্যোগ সরকার নিতে চেয়েছিল, সেটাও এখন আর হচ্ছে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা ‘অন্তর […]
© ২০১০ আমাদের ইতালী. সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত | RSS

ডিজাইন এবং ডেভেলপঃ idea52.com