বিদেশে কর্মরত ৪৭টি কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে ১৮টি মিশন রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাদের কোটা পূর্ণ করতে পারেনি। এ কারণে ব্যর্থ মিশনগুলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তাদের কাছে ব্যর্থতার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মিশনগুলো তাদের কোটা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্তô মিশনগুলো আয় করেছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি মার্কিন ডলার যা লড়্গ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ কম। তবে এই আয় ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যেসব মিশন লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে তাদের কোনো তিরস্ড়্গারের ব্যবস্থা না থাকায় দায়িত্বরতরা কাজের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন না।
২০০৯-১০ অর্থবছরের জন্য রফতানি লড়্গ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭৬০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে মে মাস পর্যন্তô ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার। এর বিপরীতে রফতানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ডলার। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১ হাজার ৪১৪ কোটি ডলার।
রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন দেশে ৪৭টি কূটনৈতিক মিশন কাজ করছে। এর মধ্যে ৩২টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে- নয়াদিলিস্ন, ত্রিপলি, নাইরোবি, মানামা, মাসকট, থিম্পু, দুবাই, হ্যানয়, টোকিও, হংকং, দোহা, বেইজিং, ইয়াঙ্গুন, কলম্বো, ম্যানিলা, মস্ড়্গো, জাকার্তা, রাবিতা, কায়রো, আম্মান, ইসলামাবাদ, ব্রম্ননাই, স্টকহোম, সিঙ্গাপুর, আঙ্কারা, কুয়ালালামপুর, ব্রাসেলস, লন্ডন, মাদ্রিদ, সিউল, প্যারিস ও তেহরান। অবশিষ্ট ১২টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তবে এই ১২টির মধ্যে হেগ, ক্যানবেরা, কাঠমান্ডু আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি রফতানি করেছে এবং বার্লিন, রোম, অটোয়া, প্রিটোরিয়া, তাসখন্দ, ওয়াশিংটন, ব্যাংকক, রিয়াদ ও কুয়েত কম রফতানি করেছে।
গত অর্থবছরে লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ ১৮টি মিশন হচ্ছে- দুবাই, ব্রাসেলস, দ্য হেগ, বার্লিন, লন্ডন, রোম, অটোয়া, মাদ্রিদ, প্রিটোরিয়া, তাসখন্দ, ওয়াশিংটন, সিউল, প্যারিস, ক্যানবেরা, ব্যাংকক, রিয়াদ, কাঠমান্ডু ও কুয়েত। আর লড়্গ্যমাত্রা অর্জনের তালিকায় থাকা মিশনগুলো হচ্ছে- নয়াদিলিস্ন, ত্রিপলি, নাইরোবি, মানামা, মাস্ড়্গাট, থিম্পু, তেহরান, হ্যানয়, টোকিও, হংকং, দোহা, বেইজিং, ইয়াঙ্গুন, কলম্বো, কুয়ালালামপুর, মস্ড়্গো, জাকার্তা, রাবাত, আম্মান, কায়রো, ইসলামাবাদ, বন্দর সেরি বেগওয়ান, স্টকহোম, সিঙ্গাপুর, আংকারা ও ম্যানিলা।
চলতি বছরের মে মাস পর্যন্তô নয়াদিলিস্ন মিশনের লড়্গ্যমাত্রা ধরা হয় ২৪ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, অর্জন করেছে ২৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। লড়্গ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে ২০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। টোকিও মিশনের লড়্গ্যমাত্রা ছিল ১৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, আয় হয়েছে ৩০ কোটি ২৮ লাখ ডলার, বেড়েছে ৬১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। লন্ডন মিশনের ১৪৪ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে ১৪৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্যারিস মিশনের লড়্গ্যমাত্রা ৯৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে ৯৬ কোটি ১২ লাখ ডলার।
দ্য হেগ মিশনের ১০০ কোটি ১৫ লাখ ডলার রফতানি লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন হয়েছে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, বার্লিন মিশনের ২১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ২০৫ কোটি ৯ লাখ ডলার, ওয়াশিংটন মিশনের ৩৯১ কোটি ৮১ লাখ ডলার লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে আয় ৩৬৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার, অটোয়া মিশনের ৬৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের লড়্গ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৮ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
কূটনৈতিক মিশন ছাড়াও রফতানি বৃদ্ধির লড়্গ্যে বিভিন্ন দেশে ১৬টি বাণিজ্যিক উইং কাজ করছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্তô ১২টি উইং রফতানি লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে সড়্গম এবং ৪টি ব্যর্থ হয়েছে। বেইজিং, প্যারিস, টোকিও, ইয়াঙ্গুন, মস্ড়্গো, নয়াদিলিস্ন, কুয়ালালামপুর, লন্ডন, ব্রাসেলস, মাদ্রিদ, দুবাই, তেহরান এই ১২টি উইং রফতানি লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে সফল। অন্যদিকে ওয়াশিংটন, বার্লিন, ক্যানবেরা, অটোয়া এ ৪টি মিশন লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে ক্যানবেরা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি রফতানি করেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তôরীণ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক আয় বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। যেসব কূটনৈতিক মিশন লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ, সেসব মিশনে কর্মরত কর্মকর্তাকে এ জন্য কারণ দর্শানসহ শাস্তিôমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈশিক মন্দার প্রভাব থেকে আমাদের অর্থনীতিকে রড়্গা করতে এর কোনো বিকল্প নেই।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কমিটি বৈঠকে আলোচনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পড়্গ থেকে যেসব মিশন লড়্গ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ব্যর্থতা এড়ানো যায় সে বিষয়েও পদড়্গেপ গ্রহণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। অবশ্য আগামীতে যৌক্তিক লড়্গ্যমাত্রা নির্ধারণ ও কূটনৈতিক মিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে সেটা সম্ভব হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭ বার



