কমে যাচ্ছে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে এসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে (২০০৮-০৯) ছিল ২৪ শতাংশ, এরও আগের বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৩ শতাংশের ওপরে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আশঙ্কাজনক হারে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, দেশের মোট রেমিট্যান্সের দুই-তৃতীয়াংশ আসে এসব দেশ থেকে। সেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে এখন নানা কারণে শ্রমিক ফিরে আসছেন। যে হারে শ্রমিক ফিরে আসছেন, সেই হারে যাচ্ছেন না। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহের হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে আগামীতে রেমিট্যান্স আহরণের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালিসহ পশ্চিমা দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাপক হারে কমে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ক্রমান্বয়ে রেমিট্যান্স কমে আসার কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিগত দিনে বেশির ভাগ রেমিট্যান্স এসেছে আরব দেশগুলো থেকে। কিন্তু বর্তমানে এর প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, শুধু রাজনৈতিক কারণে যেমন শ্রমিক ফিরে আসছেন, এর পাশাপাশি বিগত দুই বছরের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণেও শ্রমিকরা ফিরে আসছেন। এ কারণে কমে যাচ্ছে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশ থেকে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে তার অর্ধেক আসে সৌদি আরব থেকে। সেই সৌদি আরব থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। সমাপ্ত অর্থবছরেও সৌদি আরব থেকেই এসেছে দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৩১ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমাপ্ত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে (২০০৮-০৯) প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৩ শতাংশ। এরও আগের বছরে (২০০৭-০৮) সৌদি থেকে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৪ শতাংশ।
এ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে আরব আমিরাত থেকে। নানা কারণে এ দেশ থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরে আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে পৌনে আট শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে (২০০৮-০৯) এটি ছিল ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, এরও আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে কুয়েত থেকে। এ দেশ থেকেও ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। গত তিন অর্থবছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমাপ্ত অর্থবছরে কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে (২০০৮-০৯) ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ। এরও আগের বছরে (২০০৭-০৮) এর প্রবৃদ্ধি ছিল ২৭ শতাংশ।
অপর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের অপর পাঁচটি দেশ কাতার, ওমান, বাহরাইন, লিবিয়া ও ইরান থেকে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে।
এ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাজ করেন এমন দেশগুলোর বেশির ভাগ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, একে তো মন্দার প্রভাব, পাশাপাশি জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে রেমিট্যান্স হাউজ খোলার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অপর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতি সহজেই রেমিট্যান্স হাউজ খোলা গেলেও শুধু শ্রমিক ফিরে আসায় রেমিট্যান্স আহরণ নিুমুখী হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিদুøৎ, গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধা না বাড়ায় এমনিতেই বিনিয়োগকারীরা কোনো বিনিয়োগ করছেন না। দেশে যেসব কলকারখানা আছে তাও গ্যাস, বিদুøতের অভাবে শতভাগ উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না। দেশের অর্থনীতি কোনো রকম সচল রাখতে একমাত্র ভরসা ছিল রেমিট্যান্স। এ রেমিট্যান্স প্রবাহও ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখার জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
৩ বছরের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির চিত্র
অর্থবছর মধ্যপ্রাচ্য সৌদি আরব আমিরাত কুয়েত
২০০৯-১০ ১৩% ১৯% ৭.৭৫% ৫%
২০০৮-০৯ ২৪% ২৩% ৫৪.৫৫% ১২.৪০%
২০০৭-০৮ ৩৩% ৩৪% ৪২% ২৭%
-আশরাফুল ইসলাম
সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫ বার



