নারীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন
কানাডীয়ান সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়্যালে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যসূচি নিয়ে প্রশ্ন
ইন্টারনেট : আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযানে পাঠানো কানাডীয়ান সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়্যালে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়্যালে নারীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অসম্মান করতে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বন্দিদের প্রতি রুঢ় আচরণেরও শিক্ষা দেয়া হচ্ছে বাধ্যতামূলক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে। কানাডার বার্তা সংস্থা দি কানাডীয়ান প্রেস তথ্য প্রাপ্তি অধিকারের আইনের আওতায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পুস্তকাদি সংগ্রহের ব্যাপারে ব্যাপারটি সবার নজরে আসে।
দি কানাডীয়ান প্রেসের সংগৃহীত এই দলিলে দেখা যায়, সেনাসদস্যদের শিক্ষা দেয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে নানা ধরনের কার্টুন ব্যবহার করা হয়েছে। একটি কার্টুনে দেখা যায়, বারে একজন মহিলা স্তূপ হয়ে থাকা খালি বোতলের উপর আপত্তির ভঙ্গিতে একজন পুরুষের সঙ্গে শুয়ে আছে। কার্টুনটির ক্যাপশন দেয়া হয়েছে, ‘‘তোমার যখন আর সঙ্গীনীর জন্যে ডিঙ্ক কেনার মতো অবস্থা নেই, সেই কথাটি তুমি কিভাবে বলবে? অন্য একটি কার্টুনে একজন পুরুষ সেনা কর্মকর্তা একজন মহিলা সার্জেন্টকে অস্ত্র শত্রুপক্ষের সঙ্গে অস্ত্র আলোচনায় ‘বারগেইনিং চিপ' হওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধে পাঠানোর আগে সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে নারী তো বটেই খোদ মহিলা সেনাকর্মকর্তাদেরও যৌন উপকরণ হিসেবে চিহিণত করা হয়েছে। প্রায় সবকটি কার্টুনেই এই ধরনের আপত্তিকর, নারীদের জন্যে অবমাননাকর এবং যৌন সুড়সুড়ি দেয়া বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন দেশে সেনাসদস্য পাঠানোর আগে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্যে এই ম্যানুয়্যালটি তৈরি করেছে কানাডার ডিফেন একাডেমি। ‘কনডাক্ট আফটার ক্যাপচার' নামের তিন সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণটি করা হয়েছে শত্রুদের হাতে ধরা পরে গেলে কি করতে হবে তার উপর। গত ২০০৭ সাল থেকে এই প্রশিক্ষণটি পরিচালিত হচ্ছে। দ্বনদ্ব-মুখর কোনো দেশে নিয়োগ পাওয়া সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্যে এই প্রশিক্ষণটি বাধ্যতামূলক। বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে কূটনীতিক এবং বিদেশি মিশনে কর্মরতছাড়াও সাহায্য সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যেও বাধ্যতামূলক।
দি কানাডীয়ান প্রেস কার্টুনগুলোর কপি হাতে পাবার পর এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠেছে কানাডার সেনাবাহিনী তাহলে কি শিখছে?
এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন কার্টুনগুলো আক্রমণাত্মক এবং আপত্তিকর। লে: কর্নেল লয়েড জিলান অবশ্য দাবি করেছেন এইগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।
কানাডীয়ান প্রেসকে তিনি বলেন, আমার জানামতে সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালে এই ধরনের কোনো কার্টুন নেই। অতি ঈর্ষাপরায়ণ কোনো কর্মকর্তা হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ের খসড়া ম্যানুয়ালটি সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রকাশ করে ফেলে থাকতে পারে। তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত উপকরাণাদি তারা পর্যালোচনা করতে শুরু করেছেন।
সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৮ বার



